ঢাকা ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
নজরুল বহাল, মিষ্টির পদত্যাগ: যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল সেপ্টেম্বরে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয় ক্যান্টনমেন্টে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া আহত যুবকের মৃত্যু মেট্রোরেলের দুই লাইনে ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন মিষ্টির পদত্যাগপত্র পেয়েছি, আজ থেকেই কার্যকর : স্পিকার ৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়া ৪৬ জনের গেজেট সোমবার ৬ মাস নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রোনালদো সোনা জিততে চাওয়া বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ পাবে তো? শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীজনদের মূল্যায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে আইন সবার জন্য সমান

অসময়ের বন্যা-খরায় দীর্ঘশ্বাস বাড়ছে তিস্তাবাসীর

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২,  11:26 AM

news image

বছরের পর বছর তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কুড়িগ্রামের তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা। পানি বণ্টন চুক্তি না হওয়ায় তিস্তা ও আশপাশের নদ-নদীতে নাব্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানির চাপ ও শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এখানকার লাখো মানুষ।

জানা গেছে, তিস্তা নদী নীলফামারী জেলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে লালমনিরহাট হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট, উলিপুর ও চিলমারী হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে ১১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ নদী কুড়িগ্রাম অংশে পড়েছে ৪০ কিলোমিটার।

উজানে বাঁধ নির্মাণের ফলে উত্তরাঞ্চলে পানিশূন্যতা দেখা দেয় আবার বর্ষা মৌসুমে একতরফাভাবে ছেড়ে দেওয়া পানি এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এ অঞ্চলের মানুষকে।  ২০১১, ২০১৪, ২০১৫ ও সর্বশেষ ২০১৯ সালে তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে দু’দেশ দীর্ঘ বৈঠকে বসলেও হতাশা থেকেই গেছে। এখনো কোনো কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

Dhaka post

রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তিস্তা নদীর অববাহিকার গতিয়াশাম এলাকার বাসিন্দা একরামুর হাসান বলেন, শুকনো মৌসুমে তিস্তার পানি দিচ্ছে না ভারত সরকার। আবার বর্ষা মৌসুমে যখন-তখন ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত পানি। এতে করে সারা বছর পানির প্রবাহ ঠিক না থাকায় ভরে যাচ্ছে নদীর তলদেশ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা। প্রতি বছর আমার এখানে বহু বাড়ি-ঘর ও ফসিল জমি তিস্তা নদীতে বিলীন হচ্ছে। কোনোভাবেই ভাঙন ঠেকাতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা। 

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি গ্রামের জেলে ইদ্রিস আলী বলেন, শুকনো মৌসুমে নদীতে পানি না থাকার কারণে মাছ পাওয়া যায় না। আবার ভরা মৌসুমেও স্রোত বেশি থাকার কারণেও নদীতে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা এখানে যারা জেলে আছি তারা কেউ ভালো নেই। কোনো রকম কষ্ট করে চলি।

একই উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের কিতাব খাঁ গ্রামের ইউপি সদস্য মামুন মন্ডল বলেন, পানি বণ্টন না হওয়ায় আমাদের এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা তিস্তার ভাঙন। ভাঙনের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। আবার শুকনো মৌসুমে নদীতে পানি না থাকার কারণে নদীনির্ভর মানুষ অনেক কষ্টে দিন অতিবাহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেছেন। আমরা আশা করছি, তিনি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করবেন।

কুড়িগ্রামের একুশে পদকপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন বলেন, নদী যখন এক দেশ থেকে আরেক দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন একটা নদীর ওপর উজান ও ভাটির দুটো রাষ্ট্রেরই সমান অধিকার থাকে। নদী কোনো রাষ্ট্রের একক সম্পদ নয়, এটি আন্তর্জাতিক সম্পদ। তিস্তার পানি না পাওয়ার ফলে আমাদের জীব-বৈচিত্র্যের বৈকল্য হচ্ছে। আমাদের প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। এখানে মরুকরণের একটা প্রক্রিয়া অগ্রসর হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, তিস্তা থেকে যে পানি পাওয়ার কথা রয়েছে, সেটা আমরা পাচ্ছি না। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি হলেও আমরা মনে করব ভারত-বাংলাদেশ দুটি পৃথক রাষ্ট্র। তাদের প্রাদেশিক সমস্যার কারণে পানি না পাওয়াটা আমাদের জীবনের জন্য একটা জঠিলতা তৈরি করছে। নিকট ভবিষ্যতে যদি পানিটা আমারা না পাই, তাহলে আমাদের রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে বলে মনে করি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের  নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ্-আল-মামুন বলেন, জীবন ও জীব-বৈচিত্র্য বাঁচাতে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করি।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির