ঢাকা ১৫ মে, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সুপ্রিম কোর্ট বারে ১৪ পদের ১৩টিতে বিএনপির বিজয় কমলো সোনার দাম জ্বালানি নিরাপত্তায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত সমঝোতা সই ব্রয়লারের কেজি ২০০, ডিমের ডজন ১৫০ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ও সয়াবিন কিনতে চায় চীন : ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিলে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫১০, আহত ১২৬৮ : যাত্রী কল্যাণ সমিতি সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব ‘টিকা নিয়ে দোষীদের খোঁজার আগে আমার মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে’ ২৭তম বিসিএসের বঞ্চিত আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ

উড়ন্ত ভারতের সামনে ‘আত্মবিশ্বাসী’ বাংলাদেশ

#

স্পোর্টস ডেস্ক

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫,  12:16 PM

news image

২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর থেকে ওয়ানডে ফরম্যাটে পারফরম্যান্স তলানিতে হলোও এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শিরোপার স্বপ্ন বাংলাদেশের। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর ১২টি ওয়ানডে খেলে মাত্র ৪টিতে জিতেছে টাইগাররা। সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তান শাহিনসের বিপক্ষেও পাত্তা পায়নি টিম টাইগার্সরা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশকে নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী নন রিকি পন্টিং, এবি ডি ভিলিয়ার্সের মত কিংবদন্তীরা। তাদের মতে, বড় দলকে হারানোর মত সামর্থ্য নেই বাংলাদেশের।

অবশ্য বেশ ইতিবাচক শান্ত, ‘আমাদের একটা ইউনিট হিসেবে খেলতে হবে। দল হিসেবে খেলতে পারলে যেকোন দিন আমরা যেকোন প্রতিপক্ষকে হারাতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি টুর্নামেন্টের আটটি দলই ভালো। ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আমাদের ভালো স্মৃতি আছে।’

ভারতের বিপক্ষে সাম্প্রতিক রেকর্ড আত্মবিশ্বাস করছে শান্তকে। ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জিতেছে টাইগাররা। পাশাপাশি ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামলে বাংলাদেশ শিবির যে সবসময়ই উজ্জীবিত থাকে এটিও কোন গোপন বিষয় নয়। শান্ত বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময় আমরা (ভারতের বিপক্ষে) কয়েকটি ম্যাচ জিতেছি। গত বছর ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে  আমাদের কিছু ভালো স্মৃতি হয়েছে।’ আরও বলেন, ‘কিন্তু সেটা এখন অতীত। আমি মনে করি আগামীকাল আমরা ভালো খেলতে  এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারওে  আমাদের জন্য ভালো ম্যাচ হবে।’

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এবং ভারত  এ পর্যন্ত ৪১টি ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে। যার মধ্যে ভারত ৩২টিতে এবং বাংলাদেশ ৮টিতে জিতেছে। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। কিন্তু আইসিসি ইভেন্টে মাত্র একবার ভারতকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর আর কখনও তাদের হারাতে পারেনি টাইগাররা। সবশেষ দুই আইসিসি ইভেন্টে অবশ্য বাংলাদেশ হেরেছে দৃষ্টিকটুভাবে। 

২০২৩ বিশ্বকাপের ম্যাচে পুনেতে ভারতকে সেই অর্থে চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেনি বাংলাদেশ। বিরাট কোহলির সেঞ্চুরিতে ভর করে স্বাগতিকরা জিতেছিল ৭ উইকেটে। আর ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের জয় ছিল ৫০ রান। 

সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালেও দেখা হয়েছিল দুই দেশের। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই আসরটাই বাংলাদেশের জন্য আইসিসি ইভেন্টে সর্বোচ্চ সাফল্য। তবে স্বপ্নযাত্রার ইতি ঘটেছিল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে। ঐ আসরের সেমিতে ভারতের কাছে ৯ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। ৮ বছর পর সেই ভারতকেই আবার পাচ্ছে টাইগাররা। 

বাংলাদেশ অধিনায়ক সেই ফিরে আসার ম্যাচে অনেকটাই নির্ভর করছেন কন্ডিশনের ওপরে। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘ভারতকে হারানোর জন্য দুবাইয়ের কন্ডিশন আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে দলকে। দুবাইয়ের ধীর গতির উইকেটকে বাংলাদেশের উইকেটের সাথে বিবেচনা করা হয় এবং সম্প্রতি এই ধরণের উইকেটে খেলতে বেগ পেতে হয়েছে ভারতকে।’

শান্ত বলেন,  ‘আমি মনে করছি ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই আমাদের ভাল খেলতে হবে। কারণ আমি মনে করি গত কয়েক বছর ধরে আমরা এই ফরম্যাটে যেভাবে খেলেছি, তাতে আমার মনে হয় আমাদের একটি ভালো দল আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কন্ডিশনও একই রকম। আমরা নিজেরা পুরোপুরি প্রস্তুত বলে আমি সত্যিকারার্থেই বিশ্বাস করি। আগামীকালের ম্যাচে ভাল কিছু হবে আশা করছি।’

ভারতের গণমাধ্যমে বিগত কয়েকদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে তিন স্পিনার তত্ত্ব। রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল এবং কুলদীপ যাদবের ত্রিফলা আক্রমণ দেখা যেতে পারে এই ম্যাচে। যদিও শেষ মুহূর্তের খবর বলছে রবীন্দ্র জাদেজার পরিবর্তে ওয়াশিংটন সুন্দরকে বাংলাদেশের বিপক্ষে নামাতে চান কোচ গৌতম গম্ভীর। তবে ভারত যে দুবাইয়ের পিচে সুইং নির্ভর বোলিং সাজাবে তা অনুমেয়। 

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অবশ্য ভরসার জায়গা পেস বিভাগ। মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ এবং নাহিদ রানার আক্রমণে ভরসা রাখতে চাইবে টিম ম্যানেজমেন্ট। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে পেস বিভাগে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। তবে দুবাইয়ের কিছুটা ধীরগতির উইকেটে মুস্তাফিজুর রহমান হতে পারেন বাংলাদেশের এক্স-ফ্যাক্টর। পুরাতন বলে কিংবা ডেথ ওভারে ফিজের কার্যকরী স্লোয়ার এবং কাটার হতে পারে ভারতকে বাগে আনার বড় অস্ত্র। 

বাংলাদেশ স্কোয়াড : নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলী অনিক, মেহেদি হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন ইমন, নাসুম আহমেদ, তানজিদ হাসান, নাহিদ রানা।

ভারত স্কোয়াড: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শুভমান গিল, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার, লোকেশ রাহুল, ঋষভ পান্ত, হার্ডিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, কুলদীপ যাদব, হার্ষিত রানা, মোহাম্মদ শামি, আর্শদীপ সিং, রবীন্দ্র জাদেজা, বরুণ চক্রবর্তী।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির