ঢাকা ১০ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
কর্নেল ওলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় জোটের সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডন গ্রেপ্তার, নেওয়া হচ্ছে আদালতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ সমুদ্রের নীল জলরাশির পাশেই বাঁশখালীবাসীর সমাবেশে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী সোনার দাম ভ‌রি‌তে বাড়ল ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা ট্রাম্পের ৪০ কোটি ডলারের ‘বলরুম প্রকল্প’ আটকে দিলেন আদালত হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বলাকা লাউঞ্জে আগুন ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিল পাস যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে আজ ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা জেআইসি পরিদর্শনে যাচ্ছেন ট্রাইব্যুনাল

ব্যায় ৫০ কোটি এখন বলছে স্টোপেজে এর জন্য উপযুক্ত নয়

#

নাজমুস সালেহী

০৬ মার্চ, ২০২৩,  3:46 PM

news image

৫০ কোটিরও বেশী টাকা খরচ করে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ২০১৮ সালে নির্মান করা হয় হাইটেক পার্ক রেলস্টেশন। সারাদিনে সেখানে থামে একটি মাত্র লোকাল ট্রেন, যার টিকিটের বরাদ্দ মাত্র ৭০/৮০ টি। ফলে স্টেশনের এক মাসের আয় দিয়ে এর বিদ্যুৎ বিলও দেয়া সম্ভব হয়না। 

স্টেশন রিলেটেড রেলকর্মিরা বলছেন, সাভারের গার্মেন্টস এলাকা ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল স্টেশনের খুবই কাছাকাছি, ফলে বিপুল সংখ্যক যাত্রী চাহিদা রয়েছে।  এছাড়া চন্দ্রা কেন্দ্রিক মহাসড়কের যে যাত্রী চাপ তার সবই কমে যেত যদি এখানে কিছু ট্রেনের স্টপেজ ও টিকিট বিক্রির সুযোগ থাকতো। তারা বলছেন, এখানে প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার যাত্রী চাহিদা রয়েছে। উদ্যোগ নিলেই বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় করা সম্ভব এখান থেকে। 

অথচ রেলের অপারেশন বিভাগ বলছে এই লাইনে এখনই সক্ষমতার চেয়ে বেশী ট্রেন চলাচল করছে। নতুন করে ট্রেন বাড়ালে সব ট্রেনই ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়ে পড়বে। এখানে ট্রেন থামাতে হলে চলাচলকারী অন্য সব ট্রেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করাতে হবে। তাছাড়া কারিগরিভাবেও ট্রেনের স্টপেজের জন্য উপযুক্ত নয় স্টেশনটি। ১৪ বগির আন্তঃনগর ট্রেন থামানোর জন্য যে ধরনের সক্ষমতা দরকার তা সেখানে নেই। তাছাড়া সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় পুরোপুরি সেবা দেয়ার সক্ষমতা নাই নতুন এই স্টেশনের। তাই ইচ্ছা থাকলেও ট্রেন বাড়ানোর কোন উপায় নেই। আমার কথা হলো ৫০ কোটি টাকা খরচের আগে এসব কারও মাথায় আসেনি?

যাত্রী থাকুক আর না থাকুক, দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা আর প্রশস্ত যায়গা থাকায় প্রতিদিন  সেখানে সেলফিবাজ আর টিকটকাররা থাকে সরব। যাত্রীর চেয়ে টিকটকারের সংখ্যাই যেন বেশী। স্টেশনটি যেন এখন টিকটক স্পট। মাঝে মাঝে লোকাল মিউজিক ভিডিওর শ্যুটিংও হয় সেখানে। যাত্রীর চেয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যায় বেশী হয় প্রতিদিন। 

ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ভিআইপি অংশের কার্যক্রম।  টিনের বেড়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ভিআইপি বিশ্রামাগার ও প্রবেশ গেট। ফলে সেখানে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। ভিআইপি টিকিট কাউন্টারের সরঞ্জাম ও বিশ্রামাগারে ধূলোয় মিলিয়ে যাচ্ছে কোটি টাকার মালামাল। 

কাঁচ দিয়ে বানানো বেড়া ভেঙে যাচ্ছে দেখার কেউ নেই,  মাথার উপরের কাঁচের ছাদও ভেঙ্গে গেছে, ফলে একটু বৃষ্টিতেই পুরোস্টেশন কাদা পানিতে ভরে যায়। দেখভালের লোক না থাকায়, জরাজীর্ণ বেহাল দশা আধুনিক দৃষ্টিনন্দন এই বিলাসবহুল রেলস্টেশনের। উদ্বোধনের মাত্র ৪ বছরেই মুখ থুবড়ে পড়েছে স্টেশনটি। অথচ সারাদেশে সংস্কারের অভাবে বন্ধ হয়ে আছে ১৩০ টি রেলস্টেশন। সামান্য টাকার অভাবে পুরোপুরি সেবা দিতে পারছেনা শত শত রেলস্টেশন। তবুও অপ্রয়োজনীয় এমন স্টেশন বানানো হলো ৫০ কোটি টাকায়। 

সাধারণ যাত্রীদের কাছে জানতে চাই আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন, দৃষ্টিনন্দন, ৫০ কোটি টাকার স্টেশন মানুষের কতটুকু উপকারে আসছে? কতটুকু সেবা দিচ্ছে বিলাস বহুল আধুনিক হাইটেক পার্ক রেলস্টেশন?

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির