ঢাকা ০১ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সোনা জিততে চাওয়া বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ পাবে তো? শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীজনদের মূল্যায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে আইন সবার জন্য সমান সরবরাহ সন্তোষজনক, সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রির নির্দেশ এলওএবির তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ আগামী অর্থবছরে শুরু হবে: ত্রাণমন্ত্রী রামপুরায় পিস্তল-গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আল-আমিন গ্রেপ্তার ফেনীর ‘মুহুরী-কহুয়া’ সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ, দুই বছরে ঝরেছে ৪৬ প্রাণ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রয়োজন ভালো পরিকল্পনা, কার্যকর নেতৃত্ব ও দৃঢ় সংকল্প সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো পদক্ষেপ নেবে কমিশন-ইসি সচিব

ইউক্রেনে বাংলাদেশি জাহাজে রকেট হামলা, নিহত ১

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৩ মার্চ, ২০২২,  11:38 AM

news image

ইউক্রেনে আটকে পড়া ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ নামে পণ্যবাহী জাহাজটি রকেট হামলার শিকার হয়েছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর সুমন আহমেদ সাব্বির।

তিনি জানান, বাংলাদেশ সময় বুধবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাহাজের এক পাশে একটি মিসাইল এসে আঘাত হানে। তাতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফ মৃত্যুবরণ করেন।

কমডোর সুমন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজের ক্রুদের চেষ্টায় আগুন নেভানো হয়েছে, অন্য ২৮ ক্রু নিরাপদে আছেন। নিহত ইঞ্জিনিয়ার জাহাজের ব্রিজেই কর্মরত ছিলেন। 

হামলা ও প্রকৌশলীর মৃত্যুর বিষয়ে বাংলার সমৃদ্ধিতে অবস্থান করা নাবিক আতিকুর রহমান মুন্না তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘জাহাজে রকেট হামলা হয়েছে। একজন মারা গেছেন।’ কুর্দস ওয়ার্ল্ড নামে এক ফেসবুক পেজে বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

কুর্দস গ্লোবাল নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশি ভিডিওতে একটি জাহাজে বিস্ফোরণ ও আগুন ধরে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ওই পেজের পোস্টে ভিডিওগুলোকে বাংলাদেশি জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধির উল্লেখ করে বলা হয়েছে, একটি রকেট আঘাত হানার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। সেখানে প্রকৌশলীর মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রকৌশলী আরিফের বাড়ি বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলায়। তার পিতা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক (রাজা হাওলাদার)। তিনি মেরিন একাডেমির ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
 
বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (শিপ পার্সোনাল) ক্যাপ্টেন আমির মোহাম্মদ সুফিয়ান জানান, বিএসসির পক্ষ থেকে স্যাটেলাইট ফোনে নাবিকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। জাহাজটির ক্যাপ্টেনের দায়িত্বে আছেন মেরিন একাডেমির ৪০তম ব্যাচের ক্যাডেট ক্যাপ্টেন জি এম নূর-ই-আলম। জাহাজটিতে নাবিকসহ ২৯ জন ছিলেন।

বাংলাদেশের পতাকাবাহী ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিএসসি সূত্র জানা গেছে, জাহাজটি কৃষ্ণসাগরের তীরে ইউক্রেনের একটি বন্দর থেকে পণ্য (সিরামিক ক্লে) ভর্তি করে ইতালির রেভেনা বন্দরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় ওই বন্দর থেকে পণ্য ‘লোডিং’-এর পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। পরে জাহাজটি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে নোঙর করে রাখা হয়। জাহাজটিতে অন্তত ২৫ দিনের রসদ মজুদ আছে।

জাহাজটি গত ২১ ফেব্রুয়ারি খালি অবস্থায় তুরস্কের এরেগলি বন্দর থেকে ওলভিয়া বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি এমভি বাংলার সমৃদ্ধি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছায়। পণ্য লোড করার প্রস্তুতি শুরু করলেও রাশিয়ান আগ্রাসন শুরু হলে পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। 

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটিকে বন্দর ছেড়ে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু যেখানে জাহাজটি নোঙ্গর করেছে সেখান থেকে মূল সাগরে আসতে অন্তত ৬০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করতে হতো; যা স্থানীয় কোনও পথপ্রদর্শক ছাড়া সেটি করা সম্ভব ছিল না। সে কারণে জাহাজটি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

তারা জাহাজেই থাকবেন নাকি বেরিয়ে আসবেন সে বিষয়েও জাহাজের ক্যাপ্টেনকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিএসসি সূত্র। তবে জাহাজ থেকে বেরিয়ে গেলে খাদ্য সংকট এবং অন্যান্য সমস্যা হতে পারে, সে কারণে আপাতত জাহাজেই থাকতেই তারা নিরাপদ মনে করেছেন। সেজন্যই তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির